ওড়না হলো পাকিস্তানের সংস্কৃতি। এর সাথে বাঙালির কোনো সম্পর্ক নাই। এটা একটা সাম্প্রদায়িক পোশাক। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে কোথাও ওড়নার কথা লেখা নাই। অথচ আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও সেই ওড়না পরতে নারীদের বাধ্য করা হচ্ছে। আফসোস!
.
ক্লাস ওয়ানের পাঠ্যবইয়ে লেখা "ও তে ওড়না চাই"! এ নিয়ে ফেসবুকে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে। "ওড়না চাই" থেকে কোমলমতি শিশুরা নারী পুরুষের বৈষম্য শিখবে, সাম্প্রদায়িকতা শিখবে। অথচ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী পুরুষের বিভেদ দূর করা, সাম্প্রদায়িকতা দূর করা।
আজ ওড়না চাই, কালকে বলবে হিজাব চাই, পরশু বলবে জিহাদ চাই। এভাবেই একটা ছোট্ট শিশু সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।
.
আসলেই ওড়নার কি কোনো প্রয়োজন আছে? শাহবাগের আপুরা তো কেউ ওড়না পরে না। তাই বলে কি তারা খারাপ হয়ে গেছে? নাহ, বরং তারাই তো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারাই তো সবচেয়ে মেধাবী। তারাই সবচেয়ে দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল। তাহলে ওড়নার দরকারটা কি? সানিয়া মির্জারা যখন ওড়না ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব জয় করছে তখন আমাদেরকে এই এক টুকরো কাপড় পেছনে ধরে রাখছে।
.
কামিজের সুন্দর কারুকাজ করা ডিজাইনটা থাকে, গলার কাছে। কিন্তু এই ওড়নাটার কারনে ডিজাইনটা দেখা যায় না। অথচ ওড়না না থাকলে কত্ত সুন্দর লাগতো।
শুধু কি তাই? ওড়না পরার কারণে অনেক এক্সিডেন্ট হতে পারে। ভূমিকম্পের সময় দৌড় দিলে প্যাচ লেগে পড়ে মরে যেতে পারে। প্রতিবছর এদেশের লাখ লাখ মেয়ে মারা যায় ওড়নার কারণে। ওড়না পরে রিকশায় ওঠলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। প্রায়ই শোনা যায়, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করলো অমুক কিশোরী। ওড়না যদি না থাকতো, এসব কিশোরী আত্মহত্যা করতে পারতো না। বেঁচে যেত অনেক প্রাণ।
.
ওড়না না থাকলে ইভটিজিং অনেক কমে যেতো। সিনেমাতে দেখতাম মিশা সওদাগর পপির ওড়না নিয়ে দৌড় দিতো। ওড়না না থাকলে কি এভাবে ইভটিজিং করা যেতো? তাছাড়া গতবছর পহেলা বৈশাখে ঢাকা ভার্সিটিতে মেয়েদের ওড়না ধরে টানাটানি করা হয়। যদি ওড়না না থাকতো, তাহলে এসব টানাটানিও হতো না, বিশৃঙ্খলাও হতো না।
.
ওড়না মানে তো অপচয়। সারাদেশে দুই কোটি মেয়ে যদি ওড়না পরে প্রতিটা ওড়নার দাম ৫০ টাকা করে হলেও ১০০ কোটি টাকা। ক্যান ইউ বিলিভ? এই ১০০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা গাছ লাগাতে পারি। ওড়নার টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে কাপড় কিনে আমরা জাতীয় পতাকা বানাতে পারি। হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পতাকা বানিয়ে আমরা রেকর্ড করতে পারতাম। ওড়না কিনে টাকা অপচয় না করে আমরা মুক্তিযুদ্দাদের নাতি নাতনিদের হেল্প করতে পারি।
.
যে জাতি যত কম ওড়না পরে সে জাতি তত বেশি উন্নত। আমরা বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের দিকে তাকাতে পারি। এরা এতদিন ওড়না পরতো বলে অনুন্নত ছিল। ওড়না ছাড়ার পর থেকে ভারত খরগোশের গতিতে উন্নত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পৃথিবীর এক নম্বর রাষ্ট্রে পরিণত হবে ভারত।
......আসুন আমরা এসব পাকিস্তানের সংস্কৃতি বর্জন করি। ওড়না ছাড়ি, উন্নত হই! "হটাও ওড়না, বাঁচাও দেশ"



bdnatun

News Page Below Ad