ভারতের বিখ্যাত হিন্দু মন্দির চত্বর। সেখানে সনাতন পোশাকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কিছু স্থানীয় মহিলা। আর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নগ্নপ্রায় এক মডেল। সামনে রয়েছেন এক জন ফোটোগ্রাফারও। সুন্দরী তরুণী মডেল বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবির জন্য পোজ দিয়ে চলেছেন, কখনও বা কোমর দুলিয়ে ক্যাট ওয়াক করছেন, ইচ্ছে মতো ঘুরছেন মন্দির-প্রাঙ্গনে। আর মুহূর্মুহু ঝলসে উঠছে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছেন ফোটোগ্রাফার। 
কোনও ফ্যাশান ম্যাগাজিনের জন্য এমন ফোটোশ্যুট কিংবা বিকিনি-পরিহিত মডেলের ছবি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই বিশেষ ফোটোশ্যুটটি যথেষ্ট বিতর্কের কারণ হয়েছে। সৌজন্যে ফোটোশ্যুটের জন্য নির্বাচিত লোকেশনটি। নামজাদা হিন্দু মন্দিরে এমন ‘অশ্লীল’ ফোটোশ্যুট নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। 
ঘটনাস্থল রাজস্থানের উদয়পুরের জয়সমন্দ ঝিল এলাকায় স্থিত নরবটেশ্বর মন্দির। দিন কয়েক আগে এখানেই হয়ে গিয়েছে একটি বিদেশি ম্যাগাজিনের কভার ফোটোশ্যুট। সেই শ্যুটের জন্য মন্দিরে চত্বরে কিছু বিকিনি পরিহিতা মডেলের সঙ্গেই দাঁড় করানো হয়েছিল কিছু গ্রামীণ মহিলাকেও। 
ফোটোশ্যুট নির্বিঘ্নেই মিটে যায়। কিন্তু সেই শ্যুটের ভি়ডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই শুরু হয় শোরগোল। বিভিন্ন মহল থেকে আওয়াজ ওঠে যে, পবিত্র হিন্দু ধর্মস্থানে এ হেন ‘অশ্লীল’ পোশাকে মহিলার ছবি তোলার ঘটনা হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত হানছে। ব্যাপার এত দূর গড়িয়েছে যে, ব্রাহ্মণ যুবাজন সভা নামের একটি ধর্মীয় সংগঠন সহাড়া থানায় সংশ্লিষ্ট ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ, মডেল, এবং মন্দির চত্বরে ফোটোশ্যুটের অনু‌মতি প্রদানকারী সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, একটি ধর্মীয় আরাধনাস্থলে নগ্নপ্রায় যুবতীদের প্রবেশ এবং ফোটোশ্যুট চূড়ান্ত অশ্লীলতা। 
জয়সমন্দ ঝিলে নিযুক্ত রেঞ্জার মহেন্দ্র সিংহ চুণ্ডাবত এই প্রসঙ্গে বলেন, ছবি তোলার অনুমতি চেয়ে ফোটোগ্রাফার বিক্রম সিংহ ১৩ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। রসিদ কেটে সেই টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবেদনপত্রে নাকি একটি বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং-এর কথা বলা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ নাকি জানতেন যে, বিকিনি পরিহিতা মডেলদের নিয়ে শ্যুট হবে। তাঁদের এই সাফাই, বলা বাহুল্য, বিতর্ককে স্তিমিত করতে পারছে না। 
দেখুন সেই বিতর্কিত ফোটোশ্যুট
 
 

News Page Below Ad