ভারতের ভূবনেশ্বরের এয়ার হোস্টেসের প্রতিশ্রুতি ছিল পড়াশুনা শেষেই চাকরির। কিন্তু ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার বিনিময়ে কোর্সে শেষে মিলল শপিং মল পরিষ্কার করার কাজ! এমনকি চাকরি বজায় রাখতে বসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার উপদেশও মিলেছে। এমনই অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের ভূবনেশ্বরের এয়ার হোস্টেস এবং হসপিটালিটি অ্যাকাডেমি। অ্যাকাডেমিতে ঢুকে ভাঙচুর চালান প্রায় ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীরা। মারধর করা হয় শিক্ষক এবং এখানকার ডিরেক্টরকেও।
অ্যাভিয়েশেন এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের যে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কোর্স শেষে দেওয়ার কথা ছিল, তাও ছাত্র-ছাত্রীদের দিতে পারেনি এই অ্যাকাডেমি। আদৌ কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন এই অ্যাকাডেমির নেই বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। সার্টিফিকেট না থাকায় কোথাও তাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না। অ্যাকাডেমির মাধ্যমে যারা চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা হয় কোনও শপিং মলের সাফাই কর্মী অথবা রেস্তোঁরার ওয়েটারের কাজ করছেন। দেড় লক্ষ টাকা কোর্স ফি দিয়ে এই চাকরি পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা।

এখানকার এক ছাত্রীর অভিযোগ হায়দরাবাদের একটি হোটেলে তিনি চাকরি পান। কিন্তু সেখানে তাঁর বস তাঁর সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব দেয়। অ্যাকাডেমিতে অভিযোগ জানালে, চাকরি বজায় রাখতে এই সব প্রস্তাব মেনে নিতে বলে সেখানকার প্রশিক্ষকরা। এই অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর দিলীপ রৌত্রের অবশ্য দাবি, এখানকার বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই চাকরি পেয়েছেন, হাতে গোনা যে দু-একজন পাননি, তারাই এসে হামলা চালিয়েছেন।

তাঁর অ্যাকাডেমির কর্নাটকের স্টেট ওপেন ইউনিভার্সিটির অনুমোদন ছিল বলেও দাবি করেছেন ডিরেক্টর। কিন্তু ইএসজি সম্প্রতি অন্য রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। অ্যাকাডেমির তরফে হামলাকারী ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

News Page Below Ad